Published On: Tue, Jan 8th, 2019

শপথ নিয়েই নতুন অর্থমন্ত্রীর হুশিয়ারি

অর্থমন্ত্রীর হুশিয়ারি- দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, দুর্নীতিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।সোমবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বঙ্গভবনেই সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানান কামাল।নতুন অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, যেভাবে এতদিন চলেছে, সেভাবে চলবে না। শপথ নেওয়ার পর আর্থিক খাতে ‘দুর্নীতির’ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স। আমিও প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করব।তিনি বলেন, যেহেতু আমি এখনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বুঝে নেইনি তাই সেখানকার কোনো বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এতটুকু বলতে পারি যদি এমন কোথাও দুর্নীতির কিছু পাওয়া যায়, কোনো ধরনের সমস্যা থাকে তা সমাধান করব। এ ব্যাপারে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

প্রথম ‘বাউন্ডারি’ হাকালেন ওবায়দুল কাদের

১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৯- এই চারবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন করে আওয়ামী লীগ। এই চার মন্ত্রিসভায় অনেকেই মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। অনেকে ছিলেন একাধিক মন্ত্রিসভাতেও। এর আগের তিন মন্ত্রিসভায় ছিলেন এমনও আছেন কেউ কেউ।কিন্তু একজন আছেন, যিনি সবার চেয়ে আলাদা। যিনি চার মন্ত্রিসভাতেই জায়গা পেয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।সর্বশেষ রবিবার ঘোষিত একাদশ সংসদের মন্ত্রিসভায় তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত প্রথম মন্ত্রিসভায় ছিলেন যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এরপর ২০০৮ সালের শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারে শুরুর দিকে মন্ত্রিসভায় জায়গা না হলেও মেয়াদের মাঝামাঝি এসে মন্ত্রিসভায় ফেরেন কাদের। ওই মন্ত্রিসভায় তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।এরপর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনা যখন তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেন তখন মন্ত্রিসভায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের।২০১৫ সালের দিকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে ভেঙে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেল মন্ত্রণালয় নামে দুটি আলাদা মন্ত্রণালয় করা হলে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিন মন্ত্রিসভায় চতুর্থবারের মতো জায়গা পেয়েছেন ওবায়দুল কাদের।উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার বড় রাজাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ওবায়দুল কাদের। বাবা মোশারফ হোসেন সরকারি চাকুরি ছেড়ে দিয়ে জনশিক্ষা স্বার্থে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।ওবায়দুল কাদের বসুরহাট সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে মেধা তালিকায় স্থান নিয়ে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি কলেজ জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলন ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) অধিনায়ক ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কারা বরণ করেন।১৯৭৫ এর পর দীর্ঘ আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং পরপর দুইবার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।মন্ত্রী হয়েছেন প্রথমবার , সুখবর চলে আসল মুহুর্তেএকাদশ জাতীয় সংসদের নতুন মন্ত্রিপরিষদ শপথ নেবে আগামীকাল সোমবার। আজ রবিবার (৬ জানুয়ারি) বিকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এদিকে প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী হওয়ার সুখবর পেলেন আট জন।এদিকে সিলেট-১ আসন থেকে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে এ কে আব্দুল মোমেন জয়লাভ করেন। মন্ত্রিসভায় তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই মোমেন দীর্ঘদিন ওয়াশিংটনে জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বলা হয়ে থাকে, সিলেট-১ থেকে যে দলের প্রার্থী নির্বাচিত হন সেই দলই সরকার গঠন করে থাকে।তাছাড়া পিরোজপুর-১ থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিমও প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। টিভি টকশো’র পরিচিত মুখ রেজাউলকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এদিকে কুড়িগ্রাম-৪ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. জাকির হোসেনকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিও প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য।তাছাড়া বরিশাল-৫ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুককে প্রথমবারই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এদিকে জামালপুর-৪ থেকে নির্বাচিত মো. মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং ময়মনসিংহ-৫ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কে এম খালিদকে দেওয়া হয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।তাছাড়া শরীয়তপুর-২ থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীমকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন শেখ হাসিনা। সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর পরিবর্তে এবারের নির্বাচনে নৌকার টিকিট পান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনামুল।চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে শিক্ষা উপ-মন্ত্রী করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম-৯ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।