Published On: Sun, Jan 6th, 2019

দেশের ক্রিকেটকে লজ্জায় ফেলে দিলেন ‘অধিনায়ক’ হৃদয়

ঘটনাটি সিলেট ইনিংসের পাঁচ নম্বর ওভারে। বোলার ছিলেন কুমিল্লার পাকিস্তানী রিক্রুট শোয়েব মালিক। মালিকের অফস্পিনে কব্জির মোচড়ে স্কোয়ার লেগ আর মিড উইকেটের মাঝামাঝি ঘুরিয়েছেন তৌহিদ হৃদয়। তিনি নিজে অবশ্য রান নেবার এতটুকু চেষ্টা করেননি। কব্জির মোচড়ে ঘুরিয়ে পপিং ক্রিজেই দাড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু সিলেট ক্যাপ্টেন ডেভিড ওয়ার্নার সিঙ্গেলসের জন্য ননস্ট্রাইক এন্ড থেকে দৌড়ে ব্যাটিং এন্ডে চলে আসেন। কিন্তু তৌহিদ হৃদয় ঠায় দাড়িয়ে থাকেন মূর্তির মত।

দুই ব্যাটসম্যান এক প্রান্তে, সবাই ধরে বসেছিলেন হৃদয় বেড়িয়ে যাবেন আপনা থেকে। যাতে ওয়ার্নার ক্রিজে থাকেন। তাতে দলের লাভ হতো অনিবার্যভাবেই। কারণ ঐ ঘটনার আগের ওভারেই কুমিল্লার অফস্পিনার মেহেদি হাসানকে তিন তিনটি বাউন্ডারি হাকিয়ে বসেন ওয়ার্নার। ঐ ওভারের প্রথম, তৃতীয় আর চতুর্থ বলে তিন-তিনটি বাউন্ডারি হাকিয়ে উইকেটের স্লথ গতির সাথে নিজেকে প্রায় মানিয়ে নিয়েছিলেন ওয়ার্নার।

অথচ তাকেই কিনা দাড়িয়ে থেকে রান আউট করে দিলেন তৌাহিদ হৃদয়। তখন হৃদয়ের রান আট বলে ৪। আর ওয়ার্নার ১৩ বলে ১৪।

তৌহিদ হৃদয়ের এমন অদূরদর্শী আচরণে অবাক সবাই। তার নামের পাশে ৩০-৪০ রান থাকলে তবু মানা যেত। তিনি ওয়েল সেট আর ওয়ার্নার সবে উইকেটে এসেছেন। কিন্তু তাতো ছিল না। শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নারকে উইকেট স্যাক্রিফাইজ না করা হৃদয় বেশী দুর যেতেও পারেননি। ২৪ বলে ৮ রান করে আউট হয়েছেন।

হৃদয় বাংলাদেশ জাতীয় যুব দলের অধিনায়ক। তার এই বোধ , বুদ্ধি ও উপলব্ধি দেখে হতাশ অনেক ক্রিকেট অনুরাগি। সবার আক্ষেপমাখা সংলাপ, এই কি যুব দলের অধিনায়কের ক্রিকেট বোধ-বুদ্ধি? কখন কি করতে হবে, তিনি তা জানবেন না।

তার আজকের এই আচরণ যে রীতিমত লজ্জার, তিনি কি তা বুঝতে পেরেছেন? ডেভিড ওয়ার্নারের মত বিশ্ব মানের ব্যাটসম্যানকে উইকেট স্যাক্রিফাইজ করতে না পারাটা যে বোধ-বুদ্ধিহীনতার সামিল- সেই উপলব্ধিটা কি তার আছে? একটি টেস্ট খেলিয়ে দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের ক্রিকেট অধিনয়কের যদি এই সামান্য ক্রিকেট বুদ্ধি ও দুরদর্শিতা না থাকে তাহলে কি করে হবে?