Published On: Sun, Jan 6th, 2019

সৌদি নারী মানবাধিকার কর্মীর নগ্ন ভিডিও ফাঁসের হুমকি

সৌদি আরবে আটক এক নারী মানবাধিকার কর্মীর জোরপূর্বক নগ্ন ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার এই ভিডিও ফুটেজ ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিয়ে জেরা করেছেন কর্মকর্তারা। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আল-কাস্ট হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন এক বিবৃতিতে সৌদি ওই নারী মানবাধিকার কর্মীর ভয়ঙ্কর এই ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। ওই মানবাধিকার কর্মীর নগ্ন ভিডিও ধারণের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় টেবিলে নগ্ন ছবি রেখে তাকে জেরা করা হয়।

আল-কাস্ট বলছে, সৌদি ওই নারীকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন জিজ্ঞাসাবাদকারী তার কাছে জানতে চান, কে তাকে রক্ষা করবে এবং কোনো মানবাধিকার সংস্থা তাকে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসবে কি-না। অন্যান্য আটক নারী বন্দিদের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ও ইলেক্ট্রিক শক দেন জিজ্ঞাসাবাদকারীরা। ব্রিটিশ এই মানবাধিকার সংস্থা বলছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতনের কারণে তিনজন নারীর শরীরে মারাত্মক ক্ষত তৈরি হয়েছে। আতঙ্কের মধ্যে সময় পারের পাশাপাশি শরীরের ওজন হারিয়ে ফেলছেন তারা।

সৌদি রাজকীয় আদালতের সাবেক উপদেষ্টা সৌদি আল-কাহতানিকে টর্চার চেম্বারে একাধিকবার দেখা গেছে। যেখানে তিনি এক নারী বন্দিকে হুমকি দিয়ে বলেন, আমি তোমার সঙ্গে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবো এবং তোমার দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে টয়লেটে ফেলে দেব। গত অক্টোবরে আল-কাহতানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে দেশটির নির্বাসিত সাংবাদিক ও সৌদি রাজপরিবারের সমালোচক জামাল খাশোগিকে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে সৌদি রাজকীয় আদালতের সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে।খাশোগিকে হত্যার পর তার মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয় বলে দাবি করে আসছে তুরস্ক। তবে এখন পর্যন্ত তার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

২০৬ বছর পর মিলল নেপোলিয়নের লুকিয়ে রাখা গুপ্তধন সম্রাট নেপোলিয়নের স্বর্ণ। ২০৬ বছর ধরে হন্যে হয়ে যার সন্ধান করছেন বহু মানুষ। প্রায় ৮০ টনের সেই বিপুল স্বর্ণ ভাণ্ডারের খোঁজ মিলেছে অবশেষে! ভায়াচেসলাভ রিজকোভ নামে রাশিয়ার এক বিজ্ঞানী সম্প্রতি এমনই দাবি করেছেন। ইতিহাসবিদের দাবি, ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছিলেন- স্মোলেনস্ক এলাকার সেমলেভো বা নেপোলিয়ান লেকে স্বর্ণ রয়েছে।

তবে রিজকোভের দাবি, সেমলেভো নয়, সম্রাট আসলে এই জায়গা থেকে ৪০ মাইল দূরে লুকিয়েছিলেন এই স্বর্ণ। আসল এই স্বর্ণ রয়েছে লেক বোলশায়ায়।তিনি বলেন, ‘বেলারুশ সীমান্তের কাছেই সেই স্বর্ণ লুকিয়ে রাখা রয়েছে। নেপোয়িলনই রাজা আলেকজান্ডার প্রথম -এর দৃষ্টি ঘোরাতে লেক সেমলোভোর কাছে পাঠিয়েছিলেন। আসলে ১৮১২ সাল থেকে মস্কোর কাছে এই অঞ্চলেই রয়েছে স্বর্ণ।’ নেপোলিয়ানের ঘনিষ্ঠরাই এই কাজে তাকে সাহায্য করেন বলেও দাবি করেন রিজকোভ।

রুডনিয়ার কাছে মস্কো থেকে প্রায় ৪০০ কিমি দূরে বোলশায়া রুতাভেচ লেকে এই স্বর্ণ ও গুপ্তধন ফেলে দেয়া হয় বলেও দাবি করেছেন ইতিহাসবিদরা। বেশ কিছু স্বর্ণ গলিয়ে বার তৈরি করেও পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছিল আলেকজান্ডারকে ধোঁকা দিতে। ইতিহাসবিদদের অনেক দিনের দাবি, ৪০০টি ওয়াগন ভর্তি স্বর্ণ নেপোলিয়নের ৫০০ জন ঘোড়সওয়ার ও ২৫০ জন এলিট ওল্ড গার্ডের প্রহরায় ছিল।রিজকোভ জানান!

নেপোলিয়ন নিজে এই গুপ্তধন ও স্বর্ণের সমাধিস্থ হওয়া দেখতে গিয়েছিলেন। ডিসেম্বরের ঠান্ডায় ওয়াগন ভর্তি স্বর্ণের সবটাই ফেলে দেয়া হয়েছিল জলাশয়ে। ১৯৮০ সালে এই লেকেই প্রচুর পরিমাণে রূপা পাওয়া য়ায়। ওয়াল্টার স্কট তার ‘দ্য লাইফ অব নেপোলিয়ন বোনাপার্ট’-এ উল্লেখ করেছেন এই স্বর্ণের কথা। এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ নিয়ে উৎসাহ আরও বেড়েছে এর পর থেকেই। তবে এখনও পর্যন্ত সেমলেভো লেকে থেকে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হলেও কোনো সোনাদানা উদ্ধার হয়নি।

৬০ ও ৭০ এর দশকে রাশিয়া এই স্বর্ণ উদ্ধারের চেষ্টা করেছে অসংখ্যবার, কিন্তু সফল হয়নি। বহু বছর ধরে এই এলাকায় স্বর্ণের সন্ধান করছেন ভ্লাদিমির পোরিভেইভ নামে এক ইতিহাসবিদ। তিনি বলছেন, রিজকোভের দাবি ভিত্তিহীন।পোরিভায়েভ বলেন, ডিসেম্বরের মাঝে বরফ জমা লেকে কেন স্বর্ণ রাখা হবে? এর কোনো যুক্তি নেই। তবে প্রাচীন আমলের স্বর্ণের সন্ধানে লেকগুলি নিয়ে উৎসাহ বেড়েই চলেছে ২০০ বছর পেরোলেও।