Published On: Mon, Nov 26th, 2018

নায়ক হতে নয়, জীবন বাঁচাতে ঢাকায় এসেছিলাম: শাকিল খান

চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকলেও রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন সুদর্শক চিত্রনায়ক শাকিল খান। আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। বাগেরহাট-৩ আসন (মংলা-রামপাল) থেকে নির্বাচন করতে এরইমধ্যে প্রচার প্রচারণাও শুরু করেছিলেন ‘এই মন তোমাকে দিলাম’ খ্যাত নায়ক শাকিল। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন এই চিত্রনায়ক। নিজের পছন্দের দল থেকে মনোনয়ন না পেলেও ক্ষোভ নেই তার। মনে প্রাণে প্রত্যাশা করেন নৌকার বিজয়। আর এসব নিয়েই চ্যানেল আই অনলাইনের মুখোমুখি শাকিল খান:

বহুদিন ধরে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছিলেন। মনোনয়ন প্রত্যাশা করেও পেলেন না। খারাপ লাগছে?
একটুতো কষ্ট পেয়েছিই। আসলে আমার চেয়ে আমার এলাকার মানুষ বেশি কষ্ট পেয়েছেন। আমি এখনো ঢাকায় আছি, কিন্তু মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা দেয়ার পর থেকে এলাকার মানুষ একের পর এক ফোন করছে। আসলে তারা আমাকে বেশ ভালোবাসতো। আমার হয়ে তারাই আফসোস করছে। উল্টো আমাকেই ফোন করে এলাকার মানুষকে স্বান্তনা দিতে হচ্ছে।

মনোনয়ন না পাওয়ায় পরবর্তীতে দলীয় কোনো নির্দেশনা পেয়েছেন?
না। প্রধানমন্ত্রী এখনও কিছু বলেননি। তবে তিনি যা বলবেন সেটাই শুনে চলবো। তার নির্দেশ মেনে কারও না কারও পক্ষেই তো কাজ করতে হবে। এছাড়া বিকল্প কিছু নেই। আমাদের দরকার নৌকাকে সামনে নিয়ে যাওয়া। আমরা চাই না, বাগেরহাট-৩ আসন থেকে নৌকার পরাজয় হোক। মনোনয়ন না পেলেও নৌকার বাইরে যাবো না। মনোনয়ন পাইনি, এতে কষ্ট তো একটু আছেই। হয়তো আমার পরিশ্রম, ত্যাগ নেত্রীর কাছে পৌঁছায়নি। তারপরেও দলের এমন সিদ্ধান্তে কারো উপর আমার কোনো রাগ নেই। আমার নেত্রীকে, তার সিদ্ধান্তকে আমি মনে প্রাণে শ্রদ্ধা করি। তিনি যদি কখনো আমাকে প্রয়োজন মনে করেন, আমি অবশ্যই কাজ করবো।

বাগেরহাট-৩ আসন আপনার নির্বাচন ঘাঁটি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল বলে মনে হয় আপনার?
অনেকেই বলে আমার জন্মস্থান চট্টগ্রাম। এটা পুরোপুরি ভুল। আমার জন্ম বাগেরহাটে। কিন্তু চট্টগ্রামে বড় হয়েছি, লেখাপড়া করেছি। কারণ বাবা সেখানে ব্যবসা করতেন। আর জন্মস্থান বলেই বাগেরহাটের এই আসন থেকে থেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছি। আগেই বলেছি, এলাকার মানুষ আমাকে ওই আসন থেকে এমপি দেখতে চায়। সেখান থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছে ভুল ছিল না।

রাজনীতি ও চলচ্চিত্রে নিজেকে জড়ালেন কীভাবে?
কথাগুলো কখনই আমি বলিনি, আজ বলছি। ১৯৯৩ সালের কথা। আমরা তখনও পরিবারসহ চট্টগ্রামে থাকতাম। আমি ছাত্রলীগ করতাম। তখন জামাত-শিবিরের হাতে অনেক মার খেয়েছি। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি একাধিকবার। বাবা আমাকে ভয়ে ঢাকা পাঠিয়ে দেয়। ঢাকায় এসে খিলগাঁও-শাহাজানপুর এলাকার এক মেসবাড়িতে উঠি। সেখানে অনেকদিন ছিলাম। ১৯৯৭ সালে বাবা মোহাম্মদপুরে একটা ফ্ল্যাট কেনেন, সেখানে গিয়ে সবাই উঠি। তখন রাজনীতি থেকে একটু একটু দূরে গিয়ে ফিল্মে জড়িয়ে যাই। কয়েক বছর পর বাবা মারা যায়। এরপর চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা গ্রাস করে। মায়ের নির্দেশে চলচ্চিত্র থেকে সরে যাই। ব্যবসা শুরু করি। আবার একটু একটু করে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। কারণ আমার রক্তে রাজনীতির প্রতি দুর্বলতা ছিল। গত দুই বছর নিয়মিত বাগেরহাটের আসনে যাতায়াত করেছি। আমি কিন্তু নায়ক হতে ঢাকায় আসিনি। এসেছিলাম জীবন বাঁচাতে। আমি যদি তখন চট্টগ্রাম থাকতাম, হয়তো এতদিনে আমাকে মেরেই ফেলতো। সেই যে একবার ঢাকায় এসেছিলাম, আর চট্টগ্রাম যাওয়া হয়নি।

ভবিষ্যতে রাজনীতি নিয়ে ভাবনা…?
ছাত্রজীবন থেকেই দলের সঙ্গে ছিলাম। এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। দেশে যখন ভালো কর্মকান্ড হয়, তার সঙ্গে নিজেকে জড়ানো উচিত। আওয়ামী লীগ যদি দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে মনে করতাম, একজন দেশের নাগরিক হিসেবে আমি সরে আসতাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন করেছে। গত ১০ বছরের দেশে যে পরিমাণে কাজ হয়েছে এটা তো বিশ্বের কাছে বিস্ময়! সারাবিশ্বের মানুষ এখন বাংলাদেশকে চেনে। এসব কিছু সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে। নতুন যারা ভোটার, তারা কেন নৌকায় ভোট দেবে জানতে চাইলে শত শত কারণ ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু কেন দেবে না এর কোনো উত্তর নেই। তাই আমি নৌকার সঙ্গে আছি। নতুন প্রজন্মের কাছে আমার আশা, তারাও থাকবে। সরকার ক্ষমতায় এলে আবার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমি মনে করি।