Published On: Mon, Nov 26th, 2018

বিএনপির প্রার্থীদের চিঠি দেওয়া হবে আজ

  • গুলশান কার্যালয় থেকে চিঠি সংগ্রহ করার পরামর্শ
  • গত রাতেই নেতাদের কয়েকজনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে
  • জোটের সঙ্গে সমঝোতার কাজ শেষ পর্যায়ে
  • মঙ্গলবার শরিকদের চিঠি দেওয়া হতে পারে

একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থীদের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তাঁদের আজ সোমবার থেকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হবে। সবাইকে গতকাল রোববার ফোন করে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে চিঠি সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে গতকাল রাতেই বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের কয়েকজনকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার কাজও শেষ পর্যায়ে। শরিকদের কাল মঙ্গলবার চিঠি দেওয়া হতে পারে।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, কিছু আসন নিয়ে দল ও শরিকদের সঙ্গে জটিলতা আছে। এগুলো মূলত রাজধানী ঢাকার আসন। ঢাকা মহানগরীর ১৫টি আসনের মধ্যে কেবল ৫-৬টি আসনে প্রার্থী ঠিক করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা-৫ আসনে সালাহ উদ্দিন আহমদ, ঢাকা-৬ আসনে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস, ঢাকা-১০ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান, ঢাকা-১৪ আসনে এস এ খালেকের ছেলে এস এ সাজু উল্লেখযোগ্য। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গতকাল দুই জোটের শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে বৈঠক করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। জামায়াত ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ছাড়া ২০-দলীয় জোটের অন্য শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসেন জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করেন মির্জা ফখরুল ইসলামসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

 

জোট সূত্র জানায়, গতকাল পর্যন্ত ২০-দলীয় জোটের শরিক জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বোঝাপড়া শেষ হয়নি। এলডিপির দুজন কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের চারজন নেতার আসনের ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ (চট্টগ্রাম-১৪), মহাসচিব রেদোয়ান আহমদ (কুমিল্লা-৭), যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১) ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল করিম আব্বাসী (নেত্রকোনা-১)।

ঐক্যফ্রন্ট সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরের পর প্রথমে ঐক্যফ্রন্টভুক্ত নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এরপর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও সবশেষে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে গণফোরামের পক্ষে দলের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু উপস্থিত ছিলেন। তিনটি দল আলাদা করে নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আসন নিয়ে আলোচনা করে।

গতকাল সন্ধ্যায় মাহমুদুর রহমান মান্না প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিক যে আলোচনা হয়েছে, তা সেমিফাইনালের মতো। কিন্তু ফাইনাল না হলে তো কিছু বলা যাবে না। আশা করছি, রাতে, না হয় সকালে সমাধান হয়ে যাবে।’

 

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তাঁর আইন পেশার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে কাদের সিদ্দিকী, মোস্তফা মহসিন, সুব্রত চৌধুরী ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির মহাসচিবের কাছে গণফোরামের পক্ষ থেকে ৪১ জনের একটি প্রার্থী তালিকা দেওয়া হয়।

সাক্ষাৎ শেষে কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, কবে নাগাদ প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ২৮ তারিখের আগে মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে হবে। তার আগেই হবে।

 

এ সময় মির্জা ফখরুল নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের সমালোচনা করে বলেন, ‘নির্বাচন-প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের আচরণে এতটুকুও প্রতীয়মান হয়নি যে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।’

দুপুরের পর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের এক সংবাদ সম্মেলনে ড. কামালকে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, আসন বণ্টন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো দূরত্ব তৈরি হচ্ছে কি না। জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব ও একমত হওয়ার অনেক জায়গা আছে। এসব কিছু মেনেই আমরা ঐক্য করেছি।’