Published On: Thu, Nov 15th, 2018

‘খালেদা জিয়ার সম্মানে ওই আসনে নির্বাচন করছি না’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা অনেক আগে থেকেই বলে আসছিলেন অভিনেতা হিরো আলম। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য সোমবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তিনি। বগুড়া-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচন করতে চান হিরো আলম।

সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহের পর দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন হিরো আলম। তার সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। কেমন লাগছে?

হিরো আলম: আমি সবাইকে একটা অঙ্গীকার করছিলাম, আমি যদি কোনোদিন আবার ভোট করি তাহলে এমপি নির্বাচন করবো। এর আগে এলাকায় দুইবার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট করছি। হিরো আলম কথা দিলে কথা রাখে। পারুক আর না পারুক, হিরো আলম সাহস করে আগায় কিন্তু। এবার মনে সাহস নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।

প্রশ্ন: আপনি তো হিরো। কিন্তু, একেবারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনুপ্রেরণা বা সাহস আপনি কীভাবে পেলেন?

হিরো আলম: যেহেতু আগে আমি দুইবার নির্বাচন করেছি, ছোট হোক, সেই সাহস তো আছেই। এখন মনে হয় আমি বড় নির্বাচন করতে পারবো। এই যে সাহস, আজকে হিরো আলম আমি সেটা কিন্তু নিজের সাহসের ওপর। আমার চেহারা না থাকতে পারে কিন্তু আমার মেধা শক্তি দিয়ে আজকে আমি এতদূর। মনের ভেতরে চিন্তা করে আমি দেখেছি বড় নির্বাচন আমি করতে পারবো কিনা। আমি দেখেছি যে, পারবো। এইজন্য সাহস নিয়ে আমি এতদূর আইগায় আইসি।

প্রশ্ন: এবার যদি দল থেকে আপনি মনোনয়ন পেয়েই যান সেক্ষেত্রে আপনি কী প্রত্যাশা করছেন?

হিরো আলম: আমার দলের প্রেসিডেন্ট পল্লীবন্ধু হোসেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, তার যে জনপ্রিয়তা আছে আর হিরো আলমের যে জনপ্রিয়তা, এই দুইটা যদি একসাথে কাজে লাগাই আমি নিশ্চিত দলের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবো।

প্রশ্ন: হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সঙ্গে কী আপনার আলোচনা হয়েছে?

হিরো আলম: হ্যাঁ, অবশ্যই। একটা দলে আমি যোগ দেবো যখন। তাদের সাথে কথা আলোচনা না হলে কিন্তু কোনো দলের ফরম কেনা যায় না। তার সাথে যোগ দিয়ে কথা-বার্তা বলেই কিন্তু আমি এতদূর সাহস করে জাতীয় পার্টির ফরম কিনেছি।

প্রশ্ন: হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কী বলেছেন বা কী বার্তা দিয়েছেন আপনাকে?

হিরো আলম: উনি বার্তা দিয়েছেন, আমাদের জিএম কাদের স্যার, সোহেল রানা স্যার উনাদের সবার সাথে কথা হয়েছে। উনারা বলছেন, ঠিক আছে তুমি সাহস করে আগাও আমরা তোমার পাশে আছি।

প্রশ্ন: জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য কোন দল থেকে নয় কেন?

হিরো আলম: বিএনপি থেকে বগুড়া সদরে আমাদের মনে করেন খালেদা জিয়া দাঁড়াইতেছেন। জাতীয় পার্টি থেকে আমাদের সিনিয়র ভাই ওমর আছেন। তাদেরকে সম্মান দেয়ার কারণে আমি ৬ (বগুড়া-৬ আসন) থেকে না দাঁড়িয়ে আমি ৪-এ দাঁড়ালাম। ৬ আর ৪ একই ওয়ার্ডে। পাশাপাশি গ্রাম দুইটা। আমার গ্রাম ৪-এর মধ্যে পড়ছে। এই এলাকা থেকে সেই এলাকায় আমার জনপ্রিয়তাটা একটু বেশি। এইজন্য ওই এলাকাটাতে গেলাম আরকি। আর ১৪ দলে আওয়ামী লীগ আর জাতীয় পার্টি কিন্তু একই দল, ১৪ দল। দল কিন্তু একটাই। আর সবচেয়ে বড় কথা আমি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে আগে থেকেই ভালোবাসি। আগে থেকেই আমার মনে মনে টার্গেট ছিল, ভোট করলে জাতীয় পার্টি থেকেই যাব। জিনিসটা মনে মনেই রাখছিলাম কিন্তু লমিনেশন লওয়ার পরে জিনিসটা ফ্লাট করছি আরকি।

প্রশ্ন: নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

হিরো আলম: আমার একটা মনোবলের বিশ্বাস যে, এত অল্প সময়ে আমি জিরো থেকে হিরো হইছি। কিন্তু আমার চিয়ারাত নাই, আমি আমার যোগ্যতায়, মেধা ভালোবাসার কারণে। বর্তমানে ইয়াং জেনারেশনের ছেলে-মেয়ে কিন্তু হিরো আলমরে অত্যন্ত ভালোবাসে। তাদের ভালোবাসা আমি দেখেছি যে, তারা আমকে কতটা ভালোবাসে। নেগেটিভ-পজেটিভ অবশ্যই থাকবেই। সেই ভালোবাসার উপরে বিশ্বাস করে আমি অবশ্যই আগাতে পারবো। এটা আমার বিশ্বাস আছে।