Published On: Mon, Jul 16th, 2018

গ্রিন টির জাদুকরী শক্তি !

শরীর ও মনকে চাঙ্গা করতে চায়ের জুড়ি নেই। আর তা যদি হয় গ্রিন-টি তাহলে প্রফুল্লতার পাশাপাশি নানা উপকার হবে আপনার শরীরের।
নানা গুণাবলির কারণে এর প্রচলন বাড়ছে আমাদের দেশে। গ্রিন টি জাপানে ‘এন্টি এজিং ড্রিংকস’ হিসেবে প্রতিদিন পান করেন জাপানিরা।গ্রিন টি বা সবুজ চায়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট। এসব এন্টি অক্সিডেন্টে রয়েছে আমাদের শরীরে নানা প্রভাব। যেমন- হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। শরীরের হাড় সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে। রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়। ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। গ্রিন টিতে আরও কিছু উপকারিতা রয়েছে, যেমন- ওজন কমায় সবুজ চা বিপাক বৃদ্ধি করে। এর পলিফেনল শরীরের ফ্যাট অক্সিডেশন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে খাবার থেকে ক্যালরি তৈরি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। ফলে দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে না। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে সবুজ চা দৃশ্যত রক্তের গ্লুকোজ এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে, যা প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে গ্রিন টি। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় বিজ্ঞানীরা মনে করেন, গ্রিন টি শরীরের প্রতিটি শিরায় কাজ করে।

ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। তাই কোনো কারণে রক্ত চাপে পরিবর্তন হলেও কোন ধরনের ক্ষতি করে না। তাছাড়া এই চা রক্ত জমাট বাধতে দেয় না। ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। খাদ্যনালির ক্যানসার রোধ এটা খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়াও ভালো কোষগুলোর কোনো ক্ষতি না করে সার্বিকভাবে ক্যানসারের কোষ নির্মূল করে। কোলেস্টেরল গ্রিন টি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণও বাড়ায়। দাঁত ভালো রাখে গ্রিন টির ‘ক্যাটেকাইন’নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুখের ভেতরের বিভিন্ন ব্যকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে। যা গলার ইনফেকশনসহ দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা কমিয়ে আনে। ডিপ্রেশন দূর করে প্রাকৃতিকভাবেই ‘থিয়ানিন’ নামের অ্যামাইনো এসিড চা পাতায় পাওয়া যায়। এ উপাদান দুশ্চিন্তা ও হতাশা কমাতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এন্টি-ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়া বিরোধী সবুজ চা ফলে ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত সব রকমের রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। এটা ক্যানসারের ধ্বংসাত্মক সেল ধ্বংস করে। চায়ের ক্যাটেকাইন উপাদান অ্যান্টি ভাইরাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে বেশ কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে অনেক রোগ বিস্তারেও বাধা দেয় গ্রিন টি। ত্বকের যত্নে গ্রিন টি তে রয়েছে এক ধরনের এন্টিঅক্সিডেন্ট যা বার্ধক্যের গতিকে ধীর করে এবং আয়ু বাড়ায়। চোখের ফোলা ভাব এবং চোখের নীচের ডার্ক সার্কেল কমাতে ব্যবহার করা গ্রিন টি এর দুটি ব্যাগ ২ ঘণ্টা ফ্রিজ এ রেখে, ঠাণ্ডা করে চোখ বন্ধ করে এর উপর ১০ মিনিট রাখুন। তাছাড়া এটি ত্বকের রোদে পোড়াভাব কমাতে ও ব্ল্যাক হেডস দূর করতে সাহায্য করে।